কেস স্টাডি ০১ঃ ছোটবেলা থেকেই গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে খুব ভাল শাহীন। তার গণিতের সফলতা শুধু এ প্লাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং গণিতের নতুন নতুন সমস্যা সমাধানেও তার দক্ষতা চোখে পরার মত। গণিতের প্রতি আগ্রহই হয়ত তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে যে সে উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে গণিতকেই বেছে নেবে। তাই উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েই সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকে। কয়েকজন বড় ভাই তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিলেও সে তা কানে তোলে নি।
ভর্তি পরীক্ষায়ও সে ভাল সফলতা অর্জন করে। পড়ার সুযোগ পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই সে একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করল। আসলে, গণিতকে প্রয়োগ করে তেমন কোন কাজ করার সুযোগই সে পাচ্ছে না। অন্যদিকে তার ইয়ারমেট যে ছেলেটি কম্পিউটার সাইন্সে পড়াশোনা করছে সে গণিত নিয়ে অনেক কাজই করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। কম্পিউটার সাইন্সে পড়ার ইচ্ছা যে শাহীনের ছিল না এমনটি নয়। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার বাবা তাকে কম্পিউটার কিনে দিতে পারে নি তাই সমবয়সী অন্যান্য বন্ধুদের তুলনায় কম্পিউটার সংক্রান্ত জ্ঞান তার একটু কমই ছিল। তাই সে কম্পিউটার সাইন্সে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন অনেক আগেই বাদ দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সে বুঝতে পারল তার এ ধারনাটিও ভুল ছিল। আসলে কম্পিউটার সাইন্সে পড়ার সাথে কম্পিউটার চালানোর সম্পর্ক থাকলেও তা এতটা গুরুত্বপূর্ন নয় যে একজন ছাত্র কম্পিউটারে অভিজ্ঞ না হলে সে কম্পিউটার সাইন্স পড়তে পারবে না।
আমাদের বাস্তব জীবনেও অনেক সময়ই এরকম ঘটনা ঘটে। কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে আমরা আমাদের মেধাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব তা অনেক সময়ই আমরা বুঝে উঠতে পারি না। তাই অনেক সময়ই কেস স্টাডির শাহীনের মত অবস্থা হয় আমাদের অনেকের। আসলে এটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থারও একটা ভুল। একজন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার করার পরও সে জানতেই পারে না যে কোন বিষয়ে কি ধরনের কোর্স পড়ানো হয়। যার কারনে বিষয় নির্বাচন করার জন্য একজন শিক্ষার্থী পুরোপুরিভাবে 'বড় ভাই' দের উপর নির্ভরশীল থাকে। আর সব সময়ই যে শিক্ষার্থীরা এ বড় ভাইদের থেকে সঠিক পরামর্শ পায় তা ও বলা যায় না। এখন প্রশ্ন হল, একজন শিক্ষার্থী কিভাবে এ সংক্রান্ত সঠিক পরামর্শ পেতে পারে? এ কারনেই আমাদের ব্লগে একটি সিরিজ লেখা প্রকাশিত হবে বিভিন্ন সাবজেক্টের রিভিউ নিয়ে। কোন সাবজেক্টে কি ধরনের কোর্স পড়ানো হয়, কারা এ সাবজেক্টে পড়লে বেশি ভাল করতে পারবে এবং কোন সাবজেক্টের জব ফিল্ড কেমন তা নিয়ে আলোচনা করা হবে লেখাগুলোতে।
উচ্চ শিক্ষার জন্য একটি বিষয়কে নির্বাচন করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ন দিক খুব ভালভাবে লক্ষ্য করে নেয়া উচিত। এগুলো হল,
১-সাবজেক্টটিতে মূলত কি ধরনের কোর্স পড়ানো হয়
২-সাবজেক্টের বেসিক কোর্সগুলো যে বিষয় নিয়ে গঠিত তার উপ আমার দক্ষতা কতখানি
৩- সাবজেক্টের অ্যাাডভান্স লেভেলের কাজের প্রতি আমার আগ্রহ কতখানি
৪- বাস্তব জীবনে সাবজেক্টের প্রয়োগ কোনদিকে
৫- গবেষনার সুযোগ-সুবিধা কেমন আছে।
তবে কেবলমাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার করা একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এতকিছু খোজ নিয়ে বিষয় নির্বাচন করা মোটেই সহজ নয়। তাই এক্ষেত্রে সঠিত গাইডলাইনই একমাত্র সহায়ক।
যেসব শিক্ষার্থীরা এখনও মাধ্যমিকের গন্ডি পার করে নি তাদের কাছে আমার এ লেখাটি পৌছলে তাদের প্রতি আমার একটি আলাদা আহবান আছে। সেটি হল, সবগুলো বিষয় ভালভাবে মন দিয়ে পড়বে। কোন বিষয়কে কম গুরুত্বপূর্ন মনে করে একপাশে ফেলে রাখবে না। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করার সময় তোমাদের এসেছে বটে কিন্তু তা কিন্তু কোন সাবজেক্টকে কম গুরুত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে নয়।


0 মন্তব্যসমূহ